দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আবারও রেপো রেট (RBI Repo Rate) বাড়াতে পারে। আগামী সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক (RBI MPC Meet)। বুধবার, বৈঠকের শেষ দিনে এমপিসি-র সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য পেশ করবেন আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস (Shaktikant Das)।
বছরের প্রথম বৃদ্ধি!
মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দ্রুত পতনশীল মুদ্রাস্ফীতি এবং আমদানি মূল্য হ্রাসের মধ্যে ২৫ বেসিস পয়েন্ট (BPS) বৃদ্ধি পেতে পারে মূল সুদের হার। এই মুহূর্তে রেপো রেট ৬.২৫ শতাংশ। আরবিআই যদি সত্যিই রেপো রেট বাড়ায়, তবে এটি হবে এই বছরের প্রথম বৃদ্ধি। সে ক্ষেত্রে রেপো রেট দাঁড়াবে ৬.৫০ শতাংশ।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে রেপো রেট বাড়িয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সে বার ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছিল রেপো রেট। ২০২২ সালের মে মাস থেকে সবমিলিয়ে পঞ্চমবার রেপো রেট বাড়িয়েছিল রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক। মূল্যবৃদ্ধি, আর্থিক মন্দা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই পদক্ষেপের রেশ ধরেই সুদের হার বাড়ানোর পথ ধরছে অন্য ব্যাঙ্কগুলিও।
অন্য দিকে, ২০২২সালের ডিসেম্বরে, ভারতের খুচরো মূল্যস্ফীতি এক বছরের সর্বনিম্নে নেমে এসেছিল। টানা দ্বিতীয় মাসে ৬ শতাংশের নীচে ছিল মূল্যস্ফীতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি আরও কমতে পারে। ভারত-সহ বৈশ্বিক পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির হার কমবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আরবিআই নিজের মুদ্রাস্ফীতির অনুমান কমাবে। এর ফলে বৈশ্বিক পণ্যের দাম এবং দেশীয় খাদ্যের দাম কমবে।
কী বলছেন আরবিআই গভর্নর
সম্প্রতি ২২তম এফআইএমএমডিএ-পিডিএআই (FIMMDA-PDAI) বার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেছেন, বিভিন্ন দেশে কোভিড-সম্পর্কিত বিধিনিষেধের অনেকটাই শিথিল হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে আসার জন্য মূল সুদের বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য এই হার উঁচুতে থাকারই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আগেও যে ধরনের গুরুতর মন্দার আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেই তুলনায় বাস্তব অনেকটাই সুস্থির। ভারতের ক্ষেত্রেও মুদ্রাস্ফীতি উঁচুতে রয়ে গেছে। তবে নভেম্বর এবং ডিসেম্বর তা আশাব্যঞ্জক। যদিও মূল মুদ্রাস্ফীতি অবশ্য নিজের জায়গাতেই রয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: টানা ৩ সপ্তাহ ধরে বাড়ল ভারতের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার