‘আরবিআইয়ের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে’, কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধল সুপ্রিম কোর্ট

বাংলাbiz ডেস্ক: ‘আরবিআইয়ের (RBI) আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কেন্দ্র’ – বুধবার একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে শীর্ষ আদালত বলে, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যাঁরা ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের সুদ মকুব করার মতো কিছু সুবিধা দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে কেন্দ্র দোনা-মনা করছে।

বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, “আপনারা কী চান স্পষ্ট করুন। আপনারা যা খুশি বলতে পারেন না। বিপর্যয় মোকাবিলা আইন (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট) অনুসারে কিছু পদক্ষেপ করার দায়িত্ব আপনাদের। মকুব করার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে আপনাদের প্রচুর ক্ষমতা আছে। শুধুমাত্র আরবিআইয়ের উপর নির্ভর করে থাকতে পারেন না আপনারা।”   

করোনাভাইরাস লকডাউনের (Coronavirus lockdown) সময় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার ব্যাপারটি মুলতুবি রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। এই মোরাটোরিয়ামের (moratoriuam) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ আগস্ট। মোরাটোরিয়ামের দরুন ঋণ পরিশোধ পিছিয়ে যাওয়ায় ওই সময়ের জন্য অতিরিক্ত সুদ মকুব করার ব্যাপারে আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। ওই মামলার শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রের।

আরও পড়ুন: ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে আনলক ৪, কী খুলতে পারে, কী খুলবে না

এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।     

ওই মামলায় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আরবিআইয়ের হলফনামার উল্লেখ করে বলেন, ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্দশায় পড়েছে।

এর আগে আরবিআই শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছিল, মেয়াদি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে মোরাটোরিয়ামের সময়টুকুর জন্য অতিরিক্ত সুদ মকুব করা যাবে না। কারণ তা করা হলে ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক স্বাস্থ্য ও স্থায়িত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।

সলিসিটর জেনারেলের এই বক্তব্যেই ক্ষুব্ধ হয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অশোক ভূষণ বলেন, “আপনাদের (কেন্দ্রের) লকডাউনের জন্যই তো এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ব্যাবসার কথা বিবেচনা করার সময় এটা নয়। জনগণের দুর্দশার কথাও তো ভাবতে হবে। দু’টো বিষয়ে আপনারা কী চান সেটা আমাদের বলতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলা আইন আর সুদের উপর সুদ হিসাব করা হবে কি না।”

আবেদনকারীদের তরফে আইনজীবী কপিল সিবল বলেন, মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ ৩১ আগস্ট শেষ হচ্ছে। তিনি চান এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হোক। “কারণ ১ সেপ্টেম্বর হলেই তো আমরা ডিফল্ট হয়ে যাব।”

Be the first to comment

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.