নামমাত্র লগ্নি, বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় শুরু করুন মাছচাষ

fish farming in residence
বাড়িতে করুন তেলাপিয়া মাছের চাষ।

সম্রাট বন্দ্যোপাধ্যায়

আজকের আলোচনার বিষয় হল বিনা খরচে বা অত্যন্ত স্বল্প খরচে কী ভাবে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় মাছচাষ করা যায়।

প্রথমেই বলি গ্রামবাংলার কথা। ‘গ্রামের মানুষ নিজেদের পুকুর থেকে মাছ ধরে খায়’, এটা কিন্তু অনেক পুরোনো একটা ধারণা। বিগত কয়েক বছর ধরে গ্রামে বসবাস করার জন্য দেখতে পাই গ্রামের মানুষ রীতিমতো পয়সা খরচ করে মাছ কিনেই খান এবং দামটাও কিন্তু বড়ো শহরের তুলনায় খুব একটা কম নয়। টাটকা রুই বা কাতলা এখানে একটু বড়ো সাইজের (দু’ কিলোগ্রাম) হলে প্রতি কিলোগ্রাম ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। এটা কিন্তু গোটা মাছের দাম (প্রতি কিলোগ্রাম হিসেবে) বললাম। কেটে নিলে দামটা ৪২৫ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় অনায়াসে পৌঁছে যাবে। পুজোপার্বণে দাম আরও বাড়ে। শহরের বন্ধুরাও নিশ্চয়ই বেশ ভালো দাম দিয়েই রোজের মাছ কিনে থাকেন।

আলোচনার আজকের পর্বে আমরা কিন্তু গ্রামের নয়, শহরের ছোট্ট ফ্ল্যাট বা বাড়িতে কী ভাবে মাছ চাষ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করব। শহরের ফ্ল্যাট/বাড়ি যত ছোটোই হোক না কেন একটা ছোটো আকারের বারান্দা কিন্তু থাকেই। যদি আমরা একটা ৫০০ লিটারের প্লাস্টিক/ফাইবার ট্যাঙ্ক (নতুনের দাম ২৫০০ টাকা হলেও পুরোনো ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় একটু খোঁজ করলেই। ফ্রিতেও পেতে পারেন) সেই বারান্দায় সেট করে দেশি তেলাপিয়া, কই, মাগুর, ট্যাংরা, শিঙি জাতীয় কষ্টসহিষ্ণু মাছ চাষ করতে পারি তা হলে কিন্তু সেটা ছোটোখাটো একটা উদ্যোগে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।

এই ধরনের মাছ চাষ করতে গেলে বিশেষ কোনো ট্রেনিং বা রকেট সায়েন্স, কিছুই শিখতে হবে না। দিনে দু’ বার শুধু খাবার দেবেন আর সপ্তাহে দু’-তিন বার চৌবাচ্চার জল ৫০% পালটাবেন। ওই ৫০% জলটাও ফেলে না দিয়ে সবজি চাষের জন্য কাজে লাগান। যাঁরা বাড়িতে টবে সবজি বা ফুলচাষ করছেন তাঁদের বলছি, আর কখনও সার কিনতে হবে না। ওই জলটাই আপনার গাছের সার। মাছের খাবার নিজে বাড়িতে কী ভাবে তৈরি করবেন এবং সেটাও প্রায় বিনামূল্যে সেটা এই লেখার শেষে আছে। ব্যস, এতটাই সোজা পুরো বিষয়টা!

এ বার প্ল্যানটা বলি?

দেশি তেলাপিয়া মাছের বয়স ৭৫ দিন হলেই প্রজননক্ষম হয় এবং বছরে বেশ কয়েক বার বাচ্চা দেয়। মানে গোটা দশেক মাছ চৌবাচ্চায় ছাড়লে ৬ মাসের মধ্যে কয়েক হাজার হয়ে যাবে সংখ্যায়।

প্রতি তিন মাস অন্তর আপনাকে চৌবাচ্চা থেকে বড়ো মাপের মাছগুলো বের করে নিয়ে স্থানীয় মাছব্যবসায়ীকে বেচে দিতে হবে। কাজটা শুনতে ঝামেলার হলেও খুব একটা কঠিন নয়। আপনার বাড়ি থেকেই প্রতি তিন মাস অন্তর একটি নির্দিষ্ট দিনে স্থানীয় মাছব্যবসায়ী নগদ টাকা দিয়ে আপনার ফসল (মাছ) কিনে নিয়ে যাবেন। ধরুন প্রতি কিলোগ্রাম মাছের জন্য আপনি ১০০ টাকা দাম পাচ্ছেন। তা হলে ১০ কিলোগ্রাম মাছ ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  

এ বার বলি মাছের খাবার কী ভাবে বানাবেন।

সপ্তাহে একদিন ৫০০ লিটারের ট্যাঙ্কে (জল থাকবে ৪৫০ লিটার) ১০ মিলিলিটার পরিমাণ রসগোল্লার রস অথবা ১০ গ্রাম চিটেগুড় ১ লিটার জলে ভালো করে গুলে মিশিয়ে দিন। না মশাই, মাছ রসগোল্লা খায় না। তবে কি জানেন ওদের তো আর আপনার মতো আলাদা শৌচালয় নেই, জলেই করে প্রাকৃতিক কাজকর্ম, আর যেটা করে তাতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। এখন রসগোল্লার রসে থাকে চিনি। আমরা সবাই জানি চিনি বা গুড় খুব ভালো কার্বন সোর্স। এ বার নাইট্রোজেন কার্বন সোর্সের সঙ্গে মিলে কী বানাবে? ঠিক বলেছেন, খুব ভালো কোয়ালিটির প্রোটিন বানাবে। তার মানে মাছ নিজের বর্জ্যই খাবে, বারবার খাবে এবং বড়ো হবে। ট্যাঙ্কের পরিবেশও থাকবে সুস্থ।

এ ছাড়াও সপ্তাহে একদিন সামান্য বাদামখোল আর গমের ভুষি মিশিয়ে দিতে হবে। কী ভাবে মেশাবেন? কতটা দেবেন? ট্যাঙ্ক জোগাড় করে কী ভাবে সেট করবেন? সব শিখিয়ে দেব। আপনি শুরু তো করুন।

ফোন নম্বর রইল ৭০৪৪৭৯১৪৩৬। বিরক্ত করে বাধিত করবেন।

ধন্যবাদ

*একটু ছোট্ট করে নিজের ঢাকটা পিটিয়ে নিই? স্বল্প জলে মাছ চাষ করছি ২০১৬ থেকে এবং এখনও পর্যন্ত আমার সাফল্যের হার কিন্তু ৯৯%।

ছোটো করে শুরু করুন। এটাই একদিন মাঝারি উদ্যোগে দাঁড়িয়ে যাবে।

Be the first to comment

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.