অক্টোবরেই জম্মু ও কাশ্মীরে শিল্প সম্মেলনের সূচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

PM modi
এটি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

বিবিডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বাস করে, জম্মু ও কাশ্মীরের নতুন পরিবর্তিত অবস্থান অর্থাৎ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এখন পর্যন্ত সরকারি আধিকারিকরা বলছেন, ৩৭০ এবং ৩৫ এ ধারার বিধানগুলি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে চরম বাধার সৃষ্টি করে আসছিল। বিশেষ করে জমি কেনা এবং দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ থেকে বিরত রেখেছিল ওই ধারার বিধানগুলি। সরকারি সূত্রে খবর, আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জম্মু ও কাশ্মীরে শিল্পসম্মেলনের সূচনা করতে পারেন।

সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে, জম্মু ও কাশ্মীরে সমস্ত কেন্দ্রীয় তহবিলের ১০% রাজ্যটিতে ২০০০ এবং ২০১৬-য় পৌঁছেছিল কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগের তেমন কোনো প্রভাবই দেখা যায়নি। এর কারণ একটাই-ওই ধারার বিধানগুলির প্রতিবন্ধকতা। যে কারণে সরকার বিশ্বাস করে, প্রশাসনিক অবস্থা পরিবর্তন ব্যবসায়িক স্বাচ্ছন্দ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতি শিল্পোদ্যোগীদের যেমন আগ্রহ বাড়াবে তেমনই বিনিয়োগ এবং দক্ষ কর্মী নিয়োগে উৎসাহিত করবে।

এক সরকারি কর্মকর্তার মতে, “এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি আইন অনুযায়ী অবাধে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এ বার থেকে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাগাখের মতো নতুন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও বাকি দেশের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাবেন বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা”।

সরকার মনে করে, ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারার নিষেধাজ্ঞাগুলি রাজ্যের বাইরের শিল্পোদ্যোগীদের যেমন বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল, তেমনই পেশাদার এবং বিশেষজ্ঞদেরও রাজ্য সরকারি চাকুরি পেতে বাধা দিয়েছে, যার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য কর্মীদেরও অভাব হয়ে থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের হেনস্তার অবসান ঘটাতে “৩৭০ ধারার প্রতিবন্ধকতা” দুর করার প্রয়োজন ছিল, ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে যোগ করে উন্নয়ন ঘটানো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে লেখেন, “ ব্যাপক এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এই সিদ্ধান্ত প্রকৃতপক্ষে তুলে ধরে, অতীতের স্মরণীয় অবিচার এবং জম্মু-কাশ্মীরের ভাই-বোনদের নিয়ে আমাদের ভাবনাচিন্তাকে”।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, এটি “গণতন্ত্রের হত্যা”। অন্য দিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা ওই দিন সংসদে ওয়াক আউট করেন। এমনকী বামপন্থীরাও প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেন। সব মিলিয়ে বিতর্ক এখনও সমানে অব্যাহত।

Be the first to comment

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.