ভারতীয় ২,০০০ টাকার জালনোট ছাপছে পাকিস্তান সরকার!

Fake Currency
প্রতীকী ছবি

বিবিডেস্ক: ভারতীয় ২০০০ টাকার জাল নোট পাকিস্তানের সরকারি প্রেসে ছাপা হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। আরও নির্দিষ্ট করে পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি তত্ত্বাবধানেই করাচির প্রেসে ভারতীয় ২০০০ টাকার নোট ছাপার কাজ চলছে। কুখ্যাত মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম ও পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যৌথ উদ্যোগে ও প্রত্যক্ষ মদতে চলছে এই ভারতীয় জাল নোটের কারবার। সেখানে ছাপার পর বিপুল সংখ্যক জাল নোট চালান করে দেওয়া হচ্ছে ভারতে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, তাদের হাতে এমন কিছু ২,০০০ টাকার ভারতীয় জাল নোট পৌঁছেছে, যেগুলি কোনো ছোটোখাটো ছাপাখানায় ছাপা সম্ভব নয়। অন্তত যে ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই জাল নোট ছাপা হয়েছে, তা শুধুমাত্র কোনো উচ্চস্তরে অত্যাধুনিক কারিগরির সহায়তা ব্যতীত ছাপা সম্ভব নয়।

প্রাপ্ত জাল নোটগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশ জেনেছে, ভারতীয় ২,০০০ টাকার নোট সামনে থেকে দেখে যে রঙের দেখায়, সামান্য কাত করে দেখলে সেই রং বদলে যায়। কারণ ওই নোট ছাপতে ব্যবহার করা হয় অপটিক্যাল ভ্যারিয়েবল ইঙ্ক। কতকটা একই ভাবে জাল নোটগুলি ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে অপটিক্যাল ভ্যারিয়েবল ইঙ্ক। যা শুধুমাত্র বেশ কয়েকটি দেশের সরকারি ছাপাখানায় ব্যবহার করা হয়।

একই সঙ্গে আরও একটি বিস্ফোরক দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের মতে, পাকিস্তান থেকে আসা জাল নোটে কিছু সুরক্ষা বৈশিষ্ট্যও জাল হওয়ার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। দৃষ্টিহীনদের সুবিধার্থে সামান্য উঁচু করে নোটের লেখাগুলি বা নোটের ডান ও বাঁ দিকে থাকা আইডেন্টিফিকেশন মার্কও নকল করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল দাবি করেছে, করাচির মালির হল্টে অবস্থিত পাক সিকিওরিটি প্রেসেই ওই জাল নোট ছাপা হয়েছে। যেগুলি সহজে নকল বলে ধরা মুশকিল। সরকারি মদতে ছাপা ওই জাল নোট চোরাচালান রুখতে সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালে নোটবন্দির পর পাকিস্তান থেকে ভারতীয় জাল নোটের চোরাচালান প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে এ বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দর থেকে নেপাল পুলিশ ৭.৬৭ কোটি মূল্যের ভারতীয় জাল নোট উদ্ধার করে। সে সময়ই নড়েচড়ে বসে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, করাচি থেকে কাতার হয়ে নেপাল বিমানবন্দর থেকে ভারতে ঢুকছিল ওই ভারতীয় জাল নোট।

Be the first to comment

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.