পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করে কেন সংকট কাটবে না?

Onion

বিবিডেস্ক: রফতানি বন্ধ নয়, আমদানি বাড়ালেই সংকট কাটতে পারে পেঁয়াজ, আলু অথবা টম্যাটোর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে। এর জন্য প্রয়োজন অত্যাধুনিক হিমঘর, কৃষকদের উৎসাহ প্রদানে একাধিক পদক্ষেপের। কিন্তু তা না করে রফতানি বন্ধ করে দিয়ে সাময়িক সুরাহা করার প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত বলেই ধারণা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

রবিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের এক‌টি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় রান্নাঘরের অন্যতম উপকরণ পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার এ দিন থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ রফতানি সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ হিসাবে ঘোষণা করা হয় এ দিন।

আসলে পেঁয়াজের মতো ‘রাজনৈতিক ভাবে’ সংবেদনশীল ফসলের কথা উঠলে সরকার স্পষ্টতই কোনো সুযোগ নিতে চায় না। উৎপাদনশীল রাজ্যে কয়েক মাসের অবিরাম বৃষ্টিপাতের পরে সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রফতানি নিষিদ্ধ করা হল এ দিন। এই নিষেধাজ্ঞাকে একটি অযৌক্তিক এবং উপ-অনুকূল সমাধান বলেই মত প্রকাশ করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

পরিবর্তে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মজুদ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধাগুলিতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর নিদান দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, এই প্রচেষ্টাগুলি বাস্তবায়িত করতে পারলেই সংকটের সময় সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে।

অতীতেও, যখনই পেঁয়াজের দাম ক্রমবর্ধমান হয়েছে, তখন তৎকালীন সরকারও রফতানি নিষিদ্ধ করার পথ ধরেছে। কোনো সন্দেহ ছাড়াই, একটি ত্রুটিযুক্ত নীতিকে বিকল্প হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনে ন্যূনতম বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং সারা বছরই এই ফসল ফলানো যেতে পারে।

যদিও একটা “পেঁয়াজ বিপ্লব” শুরু করার জন্য কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ কোনো সরকারের আমলেই গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের।

Be the first to comment

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.