চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্ব দ্রুত বিক্রি করতে চায় কেন্দ্র

বাংলাbiz ডেস্ক: চলতি আর্থিক বছরের মধ্যেই কমপক্ষে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্ব বেচে দিতে চায় কেন্দ্র। এর জন্য তারা কোমর বেঁধে নেমেছে। এই প্রক্রিয়া যতটা সম্ভব দ্রুত সেরে ফেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর এ ব্যাপারে বিভাগীয় কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সূত্রটি জানিয়েছে, যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্ব দ্রুত বিক্রি করে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে সেগুলি হল পঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক (Punjab & Sind Bank), ব্যাঙ্ক অব মহারাষ্ট্র (Bank of Maharashtra), ইউকো ব্যাঙ্ক (UCO Bank) এবং আইডিবিআই ব্যাঙ্ক (IDBI Bank)। এই ব্যাঙ্কগুলিতে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে সরকারি অংশীদারিত্বের পরিমাণ সর্বোচ্চ।

ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণে তাড়াহুড়ো কেন

লাইভমিন্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্কিং সেক্টরকে ঢেলে সাজতে চায় কেন্দ্র। করোনাভাইরাস মহামারি (Coronavirus pandemic) থেকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে তাতে কর আদায় হ্রাস পেয়েছে। বাজেট বরাদ্দ এবং রাজস্ব ঘাটতি – উভয় ক্ষেত্রই বড়োসড়ো সংকটের মুখে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট ব্যয়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে ব্যাঙ্ক-সহ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণের দিকেও চাপ দিচ্ছে কেন্দ্র।

এমনটাও জানা যায়, এ মাসের গোড়ার দিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রককে একটি চিঠিও দেয়। সেই চিঠিতে বলা হয়, চলতি বছরেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

করোনা সংকটে সরকার চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা

কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন জাতীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, “ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে”।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর দফতর অথবা কোনো ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি অর্থমন্ত্রকও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্র এ ব্যাপারে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে। করোনা সংকটে সরকার যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলেই জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

প্রসঙ্গত, গত মাসে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, ব্যাঙ্কিং শিল্পের রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসাবে ভারত সরকার নিজস্ব মালিকানাধীন ব্যাঙ্কের সংখ্যা মাত্র পাঁচে নামিয়ে আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ অনিবার্য!

Be the first to comment

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.